অধ্যায় ০১
বাবার পাশে বসে মাত্র বারো বছর বয়সে হাতেখড়ি
আবদুল করিমের জন্ম পাথরাইলের এক ঐতিহ্যবাহী তাঁতি পরিবারে। শৈশবে খেলাধুলার চেয়েও বাবার তাঁতের খটখট শব্দ তাকে বেশি টানত। মাত্র ১২ বছর বয়সে বাবার পাশে কাঠের তক্তায় বসে সুতা গোটানো ও মাকু চালনা শেখা শুরু করেন। করিম স্মৃতিচারণ করে বলেন, “বাবা বলতেন—তাঁত চালানো কোনো পেশা নয়, এটি একটি ধ্যান। মন শান্ত না থাকলে সুতা ছিঁড়ে যাবে, আর সুতা ছিঁড়লে কাপড়ের আত্মা নষ্ট হবে।”
অধ্যায় ০২
তিন প্রজন্মের পুরোনো নকশাকে আধুনিক রঙে নবজীবন
করিমের সংগ্রহে রয়েছে তাঁর দাদার আমলের পুরোনো গ্রাফ পেপারে আঁকা পাড়ের নকশা। ব্রিটিশ আমলের ঐতিহ্যবাহী পানপাতা, লতাপাতা ও জ্যামিতিক নকশাকে তিনি আধুনিক বাঙালি নারীর পছন্দের সঙ্গে মিলিয়ে নতুন রঙের সমন্বয়ে ফুটিয়ে তোলেন। তিনি সস্তা নাইলন বা সিন্থেটিক সুতা একেবারেই ব্যবহার করেন না; তাঁর প্রতিটি শাড়ি ১০০% খাঁটি দেশি সুতি ও রেশমে বোনা।
অধ্যায় ০৩
একজন নিবেদিত তাঁতির দৈনন্দিন দিনলিপি
ভোর সাড়ে ৫টায় বিছানা ছেড়ে ওঠেন করিম। সকালের স্নিগ্ধ বাতাসে সুতায় মাড় দিয়ে টান দেওয়া হয়। সকাল ৮টা থেকে শুরু হয় কাঠের পিট-লুমে বসে বুননের নিবিড় সাধনা। দুই পায়ের প্যাডেলের ভারসাম্য আর দুই হাতের মাকুর ক্ষিপ্র গতিতে প্রতি মিনিটে ইঞ্চি ইঞ্চি করে গড়ে ওঠে শাড়ির জমিন। একটি উন্নতমানের নকশি শাড়ি বোনা সম্পন্ন করতে প্রায় ৫ থেকে ৭ দিন নিরবচ্ছিন্ন শ্রম প্রয়োজন হয়।
অধ্যায় ০৪
মধ্যস্বত্বভোগীদের অবসান: JelaMart-এর প্রত্যক্ষ প্রভাব
দীর্ঘকাল ধরে স্থানীয় হাটগুলোতে মহাজনদের কাছে নামমাত্র মূল্যে শাড়ি বিক্রি করতে হতো। পরিশ্রমে তাঁতির ঘাম ঝরলেও সিংহভাগ মুনাফা চলে যেত মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে। JelaMart-এর সরাসরি প্ল্যাটফর্মের কারণে এখন করিম ন্যায্য পারিশ্রমিক পান। এর ফলে তিনি তাঁর দুই সন্তানকে কলেজে পড়াতে পারছেন এবং তাঁতশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার সাহস পাচ্ছেন।
অধ্যায় ০৫
ক্রেতাদের উদ্দেশ্যে আবদুল করিমের আন্তরিক বার্তা
“যখন আপনারা বাজার থেকে যান্ত্রিক মেশিনের তৈরি শাড়ির বদলে আমাদের হাতে বোনা শাড়ি কেনেন, আপনারা শুধু একটি পোশাক কিনছেন না—আপনারা একটি ঐতিহ্যবাহী পরিবারকে বাঁচিয়ে রাখছেন। প্রতিটি সুতোয় আমাদের পরিবারের শুভকামনা ও আন্তরিক দোয়া জড়ানো থাকে।”